Why need water in our life
জল কি?
জল কি? মানুষের শরীরের অধিকাংশ সহ জুড়েই আছে জল। তাই জল ছাড়া আমাদের একদিনও চলা দায়।তাহলে চল কি? জল হল একটি স্বচ্ছ,স্বাদহীন, গন্ধহীন, এবং বর্ণহীন এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ, যা পৃথিবীর মধ্যে থাকা সমস্ত জীবের একটি দ্রাবক তরল হিসেবে কাজ করে। এটি পৃথিবীর হাইড্রোস্ফিয়ারের প্রধান উপাদান। এই জলের মধ্যে কোন ধরনের খাদ্যগুণ শক্তি বা জৈব মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট না প্রদান করার সত্ত্বেও পৃথিবীর প্রতিটি জীবের ক্ষেত্রে একটি অতি আবশ্যক প্রয়োজনীয় উপাদান। H2O হল এর রাসায়নিক সূত্র, যা নির্দেশ করে এর প্রতিটি অনুতে একটি করে অক্সিজেন আছে এবং দুটি করে হাইড্রোজেন পরমাণু রয়েছে। হাইড্রোজেন পরমাণু ১০৪ দশমিক ৪.৫ডিগ্রি কনে অক্সিজেন পরমাণুর সাথে যুক্ত থাকে। স্ট্যান্ডার্ড তাপমাত্রা এবং চাপে H2O এর তরল অবস্থানে নামই হল জল।
জলের প্রাকৃতিক অবস্থা
জলের প্রাকৃতিক অবস্থাঃ জলের বেশকিছু প্রাকৃতিক অবস্থা বিদ্যমান। এটি বৃষ্টির আকারে বৃষ্টিপাত হয়ে ঝড়ে এবং কুয়াশা আকারে এরোসল তৈরি করে। মেঘগুলি এবং জল বরফের ঝুলন্ত ফোটা নিয়ে গঠিত,এর কঠিন অবস্থা। সুক্ষভাবে জল বিভক্ত হলে, স্ফটিক বরফ তুষার আকারে হতে পারে। জলের বায়বীয় অবস্থা হল বাষ্প ও জলীয় বাষ্প।
পৃথিবীতে জলের অবস্থান
পৃথিবীতে জলের অবস্থানঃ পুরো পৃথিবী জুড়ে প্রায় প্রত্যেকটি পদার্থের মধ্যেই জ্বরের অবস্থান পাওয়া যায়। পুরো পৃথিবীপৃষ্ঠ জুড়ে জল পাওয়া যায় প্রায় ৭১% জুড়ে। সমুদ্র মহাসাগর গুলি পৃথিবীর বেশির ভাগ জলের আয়তন তৈরি করে প্রায় ৯৬.৫শতাংশ ধরে আছে। কিন্তু সমুদ্রের লবণাক্ত জল আমরা খেতে পারি না বা সেই জলের মাধ্যমে কোন কাজ করতে পারিনা। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন এর জন্য দরকার মিষ্টি জলের। সেই মিষ্টি জলের যোগান আমরা পাই ভূগর্ভস্থ জলের মাধ্যমে কিন্তু ভূগর্ভস্থ জলের পরিমাণ খুবই কম তা হল ১.৭ শতাংশ। এছাড়া হিমবাহ এবং আন্টার্টিকা এবং গ্রিনল্যান্ডের বরফের স্তুপ গুলিতে রয়েছে ১.৭ শতাংশ এবং বায়ুমন্ডলে বাষ্প, মেঘ, এবং বৃষ্টিপাত হিসেবে দেখা দেয় ০.০০১ শতাংশ। বাষ্পীয় ভবন ঘনীভবন বর্ষণ প্রবাহ চক্রের মাধ্যমে বৃষ্টি রূপে বর্ষিত হয়ে সেই জল সমুদ্রের মধ্যে গিয়ে মিশে।
দৈনন্দিন জীবনে জলের ব্যবহার
দৈনন্দিন জীবনে জলের ব্যবহারঃ পুরো পৃথিবী জুড়ে যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তার মধ্যে জল একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুরো পৃথিবী জুড়ে মানুষের ব্যবহার করে মিষ্টি জলের। কি মিষ্টি জল মানুষ শুধুমাত্র প্রতিদিনের খাবার নয় মানুষের খাবারের জন্য যত ধরনের উপাদান দরকার হয়। তার মধ্যেও ব্যবহার করে। যেমন মানুষ খাদ্যের জন্য কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল।তাই মানুষের ব্যবহারিত মিষ্টি জলের ৭০% ই যায় কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে। যদিও সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত মাছ লবণাক্ত জলের হলেও তা মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে ও একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। প্রাচীন কাল থেকেই সামুদ্রিক মাছ ও বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণে বিশাল ভূমিকা রেখেছি।
জলের চাহিদা মেটাতে কিভাবে সামুদ্রিক জলের ব্যবহার
জলের চাহিদা মেটাতে কিভাবে সামুদ্রিক জলের ব্যবহারঃ বর্তমানে পুরো বিশ্ব জুড়ে মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিন্তু মানুষের চাহিদা মেটানোর জন্য নতুন করে কোন জলের উৎস তৈরি হচ্ছে না। তাই বর্তমান যুগে বিভিন্ন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষ সমুদ্রের নোনা জলকেই নিজের পানযোগ্য বানিয়ে নিচ্ছি। আমরা জানি পৃথিবীর সকল দেশেই পানীয় জলের সমান ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে মিডেলিস্ট তথা ইজরায়েল ইরাক ইরান কাতার সৌদি আরব প্রভৃতি দেশে খনিজ তোল পাওয়া গেলেও কেমন পরিমাণে পানীয় জল পাওয়া যায় না। তাই এইসব দেশ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক জল থেকে পানীয় জল তৈরি করে পানের কাজে ব্যবহার করছি। ও তাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ধরনের কাজেও তারা এই জল ব্যবহার করছে।
সমুদ্রের নোনা জলের ব্যবহার
সমুদ্রের নোনা জলের ব্যবহারঃ পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকেই সাগর-মহাসাগর সমুদ্র মিলে পৃথিবীর জলের প্রায় ৯৫% ধরে আছে।কিন্তু এত পরিমান জল থাকা সত্ত্বেও সেটি আমরা আমাদের কাজে ব্যবহার করতে পারিনা কারণ সেটি লবণাক্ত জল।কিন্তু লবণাক্ত জল বলে জেতার ব্যবহার নেই তা কিন্তু নয়। প্রাচীন কাল থেকেই সমুদ্রের জলকে মানুষ বিভিন্নভাবে কাজে লাগিয়েছে। বিশেষ করে প্রাচীনকালে সমুদ্রের জল মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে অনেক সহজ করে দিয়েছিল। প্রাচীনকালে এখনকার মতন গাড়ি-ঘরা না থাকায় মানুষ সমুদ্র ও নদীর জলকেই যাতায়াতের কাজে ব্যবহার করত। পুরো বিশ্ব জুড়ে ব্যবসায়িক কাজে রাস্তা হিসেবে জলপথ কে ব্যবহার করা হতো। যদিও বর্তমানেও এই জলপথের বহুল ব্যবহার রয়েছে।
Comments
Post a Comment